কেনো পড়বেন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং??


Farjana Islam প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৩, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ /
কেনো পড়বেন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং??

বর্তমান বিশ্বে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে সবার আগে প্রয়োজন হাতে-কলমে বা বাস্তবমুখী শিক্ষার। আর হাতে-কলমে বা বাস্তবমূখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের শিক্ষাকেই কারিগরি শিক্ষা বলে। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব জোরদার করা হচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনাকে পড়তে হবে কারিগরি শিক্ষা দেয় সেই পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটগুলোতে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসব প্রতিষ্ঠান চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলো পরিচালনা করে থাকে। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেক জেলাতেই বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে।
এসএসসি পাস করার পর এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়। দেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে বিস্তারিতঃ
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কি?
প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে মানুষের সমস্যাবলী সমাধান এবং জীবনকে সহজ করার জন্য বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োগ। প্রকৌশলীগণ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করার ফলে উন্নততর নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু ও নিত্যব্যবহার্য কর্মপদ্ধতির আবির্ভাব হচ্ছে যেটি বর্তমান মানব সভ্যতার প্রতিদিনের জীবনকে সহজ করে দিচ্ছে।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হলে এইচএসসি (HSC) বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশের করার পর শুধু মাত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হলেই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্ভব। কিন্তু ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তুলনামূলক কম সময়ে কোর্স সমাপ্তি আর কোর্স শেষে ন্যূনতম চাকরির নিশ্চয়তা থাকে। এর ফলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাহিদা বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে বেশি। চার বছর মেয়াদি এই কোর্সে ভর্তি হতে হয় এসএসসি বা সমমাম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে বিভিন্ন জেলা শহরে অবস্থিত সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাড়াও ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কেন পড়বেন?
বিশ্বের যে সব দেশ কারিগরি শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সেই সব দেশ তত বেশি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের কর্মধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের সকল শ্রেণির শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে কারিগরি শিক্ষা।
যেসব প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয়ঃ
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত বিশেষায়িত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত শিক্ষাক্রমগুলো হলো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার, ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি, ডিপ্লোমা ইন মেরিন টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন হেলথ টেকনোলজি, এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এসএসসি (ভোকেশনাল)। বোর্ডের অধীনে চার বছর মেয়াদি শিক্ষাক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে ৫০টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। এর মধ্যে পুরনো ইনস্টিটিউটের সংখ্যা ২০টি, যেগুলো পুরোপুরি সরকারি। নতুন রাজস্বভুক্ত ইনস্টিটিউটের সংখ্যা ৫টি, মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট ৪টি, প্রকল্পভুক্ত ১৮টি ও মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংখ্যা ৪টি। এ ছাড়া বেসরকারি পলিটেকনিকের সংখ্যা ৪০০টির অধিক।
যে বিষয়ে পড়তে পারেনঃ
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অধীনে সেমিস্টার ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পড়ানো হয়। উল্লেখযোগ্য ডিপার্টমেন্ট গুলা হচ্ছে- সিভিল টেকনোলজি, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি, ইলেকট্রোনিক্স টেকনোলজি, আর্কিটেকচার টেকনোলজি, মেক্যানিক্যাল টেকনোলজি, কেমিক্যাল টেকনোলজি, অটোমোবাইল টেকনোলজি, ফুড টেকনোলজি, টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং টেকনোলজি সহ এর পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ অনেক টেকনোলজির উপরে পাঠদান করা হয়।
পড়াশোনার খরচঃ
সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গুলোতে চার বছর মেয়াদি কোর্সে পড়াশোনার খরচ ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা এর মধ্যে হয়ে থাকে। বেসরকারি পলিটেকনিকে পড়াশোনার খরচ একটু বেশি। সেখানে প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে খরচ আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্ষেত্রে ৯০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার মধ্যে খরচ হয়ে থাকে। এ ছাড়া সরকার কর্তৃক সরকারি এবং বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানেই প্রতি সেমিস্টারে ৪০০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। ১ম সেমিস্টারে এসএসসি রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে ৭০% ছেলে এবং ১০০% মেয়ে শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। ২য় থেকে ৮ম সেমিস্টার গুলোতে সেমিস্টারে পাশ করার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়া হয়।
উচ্চশিক্ষার সুযোগঃ
যারা উচ্চতর ডিগ্রির প্রতি আগ্রহী তারা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য ভর্তি হতে পারেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এবং দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ছাড়া রয়েছে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ। চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইভিনিং শিফটে বিএসসি করা যায়। বিএসসি পাস করে আরও ভালো চাকরি পেতেও বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়, কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার প্র্যাক্টিক্যাল অভিজ্ঞতা তাদের আছে। ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতা থাকায় বিএসসির কোর্সগুলো ভালোভাবে আত্মস্থ করতে সুবিধা হয় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের।

ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
x